জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিদ্রোহী’ হলের প্রভোস্ট ড. মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং পরে বিদ্রোহী হলের সামনে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও অনেকে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির প্রস্তুতির জন্য হলে থাকতে চায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সিট বাতিল করছে। তারা দাবি করেন, প্রভোস্টের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে তিনি দায়িত্ব পালনে অবহেলা দেখিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন।
চার দফা দাবি
১. শিক্ষার্থীদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য প্রভোস্টকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তার স্থলে নতুন ও যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগ দিতে হবে।
২. পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীদের তিন মাস সময় দেওয়া হবে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
৪. হলের ভাড়া ৫০ টাকার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে এবং বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই, নিরাপত্তা ও উন্নতমানের খাবার নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানালেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, তারা পরবর্তী সময়ে সবাইকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে, বিদ্রোহী হল প্রশাসনের আয়োজিত ইফতার মাহফিলে ১৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের রাখা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ইফতারের সময় বিক্ষোভ করে এবং অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও তাদের প্রতি সংহতি জানায়।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য ইফতারের আয়োজন করা উচিত। কিন্তু আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলেও শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
একুশে সংবাদ// এ.জে
আপনার মতামত লিখুন :