রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বাদাম তোলা, পরিস্কার করা, শুকানো ও বিক্রির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ফলন ও দাম ভালো না হওয়ায় হতাশ তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় চলতি মৌসুমে গোয়ালন্দে ১৯০ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। অতিরিক্ত খড়ার কারণে ফলন ভালো না হওয়া এবং আগাম পানি ওঠার কারণে অপরিপক্ক বাদাম তোলায় খুবই হতাশ কৃষকরা।
সরেজমিনে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর চর, ধোপাকাদি, ইসাইল সিলিমপুর ও সাত্তার মেম্বার পাড়া চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেক কৃষক তাদের জমি থেকে বাদাম তোলছেন। কেউ আবার জমি থেকে বাদাম তুলে দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটের পাশে গাছ থেকে বাদাম পরিষ্কার করছেন ও শুকিয়ে আটি করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। এ-সময় কাচা বাদাম পরিস্কার করতে ব্যস্ত এক কৃষাণীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এবার আমাদের সব শেষ। ধার-দেনা করে বাদামের চাষ করেছিলাম। বাদামে লাভ হলে তাদের দেনা পরিশোধ করবো বলে। এখনতো আমাদের খরচের টাকাই উঠে নাই, দেনা পরিশোধ করবো কিভাবে?
কৃষক ইউনুস খা, চান মিয়া, শুকুর খা, মাহি খা`র সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাদাম চাষে খরচ হয়েছে প্রতি বিঘায় ২০ হাজার টাকা। এবার প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম হয়েছে ৪-৫ মণ, অনেক জমিতে তারও কম। যা বিগত বছরের তুলনায় অরধেকও কম। ৩ হাজার টাকা মণ দরে বাজারে বাদাম বিক্রি হচ্ছে (প্রকারভেদে কম ও বেশি)। সেই হিসাবে ৩ হাজার টাকা দরে সর্বোচ্চ ৫ মণ বাদাম ১৫ হাজার টাকা বিক্রি করছি। খরচের টাকাও আমাদের উঠছেনা।
চর দৌলতদিয়া গ্রামের কৃষক বাবু সরদার বলেন, ২ বিঘা জমিতে বাদামের চাষ করেছি। খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। ৩ হাজার টাকা দরে সর্বোচ্চ ৫ মণ বাদাম বিক্রি করতে পারবো ১৫ হাজার টাকা।
কৃষক টোকন বলেন, ৬ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করছি। খরচ হয়েছে ১লাখ ২০-৩০ হাজার টাকা। বাদাম পাইয়াম ১৫-১৬ মণ। এতে আমি ৪৫-৫০ হাজার টাকা বাদাম বেঁচতে পারবো। আমার এবার বাদামে লোকশান হবে ৮০-৯০হাজার টাকা। আমি এখন কি করবো? সরকারের কাছে আমার দাবি আমাদেরকে প্রনোদনা দিয়ে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ করে এ লোকশান পুষিয়ে উঠার সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানাই।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ খোকন উজ্জামান বলেন, গোয়ালন্দে ১৯০ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। এবার অতিরিক্ত খড়ারার জন্য ও আগাম পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাদামও অপরিপক্ক থাকায় কৃষকেরা আগাম বাদাম তুলার কারনে ফলন খারাপ হয়েছে। আগামীতে যাতে ফলন ভালো হয় সেদিকে নজর রাখা হবে। তিনি বলেন, আগামীতে অনাবাদি জমি কীভাবে বাদাম চাষের আওতায় আনা যায় সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।
একুশে সংবাদ/বিএইচ
আপনার মতামত লিখুন :