মাইলেজ ফিরে পাবার দাবিতে রেলওয়ের রানিং স্টাফরা কর্মবিরতিতে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে সারাদেশের ট্রেন চলাচল। এতে করে মহাবিপাকে পড়েছেন রেলের যাত্রীরা। কোটচাঁদপুর স্টেশনে এসে ফিরে গেছেন অনেক যাত্রী। অনেকে ফেরত নিয়েছেন টিকিটের টাকাও। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছেন স্টেশন মাস্টার দিপংকর সাহা।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে কর্মবিরতি শুরু করেছেন রেলওয়ের রানিং স্টাফরা। এর অংশ হিসেবে সোমবার রাত ১২টা পর শিডিউলে থাকা ট্রেনগুলোতে উঠেননি তারা। ফলে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়নি কোন ট্রেন। নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে না পেরে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। মঙ্গলবার সকাল ১২ টার কোটচাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় এ চিত্র। তাদের মধ্যে কোটচাঁদপুরের গুড়পাড়া গ্রামের যাত্রী শাহিন আলম। তিনি ঢাকাতে চাকুরি করেন। কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিল। কাল তাঁর চাকুরিতে যোগদান করার কথা ছিল। এ জন্য ট্রেন স্টেশনে আসছিল যাবার জন্য।
মহেশপুর থেকে আব্দুল মালেক ও তাঁর স্ত্রী আসেন স্টেশনে। তারা যাবেন মুন্সি গঞ্জে ডাক্তার দেখাতে। ট্রেনে যেতে না পেরে ফিরে গেলেন। আর বড়বামনদহ গ্রামের হীরা খাতুন ও তাঁর মেয়ে আসেন ট্রেনে করে পোড়াদহ যেতে। এ সব যাত্রীদের কেউই জানেন না কেন ট্রেন বন্ধ। তারা জানতে পারলে স্টেশনে আসতেন। আর ভোগান্তিও হত না তাদের। ওই সব যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে যেতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ স্টেশন থেকে ৩৮ টি টিকিটের ৮ হাজার ৫শ ৩১ টাকা রিফান্ড করা হয়েছে। যার মধ্যে বেনাপোল, চিত্র, কপোতাক্ষ সুন্দরবন সাগরদাঁড়ি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্টেশনের টিকিট বুকিং ক্লীয়ার ইফাজ আহম্মেদ।
এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর থানার (পিএসআই) আলামিন হোসেন বলেন, সকাল থেকে ডিউটিতে আছি। এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ঘটনা ঘটেনি। তবে অনেক যাত্রীকে স্টেশনে এসে ফিরে যেতে দেখেছি।
কোটচাঁদপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার দিপংকর সাহা বলেন, সকাল থেকে ডিউটিতে আছি। অনেক যাত্রী না জেনে স্টেশনে আসেন। পরে জানতে পেরে ফেরত গেছেন। এ ছাড়া অনেকের টিকিট রিফান্ডও করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ আন্দোলন মূলত রেলওয়ের যারা রানিং স্টাফরা আছেন, তাদের গেল সরকারের সময় থেকে মাইলেজ বন্ধ করে দেন। সেই মাইলেজ ফিরে পাবার দাবিতে সোমবার রাত ১২ টা থেকে সব রেল বন্ধ হয়ে যায়। এ স্টেশন থেকে আর্ন্তনগর ট্রেনের মধ্যে বেনাপোল, চিত্র, কপোতাক্ষ, সুন্দরবন সাগরদাঁড়ি রুপসা ছেড়ে যায়। এ ছাড়া ছেড়ে যান মহানন্দা, রকেট নকশিকাথা ট্রেন।
তিনি বলেন, কর্মবিরতি শুরুর পর থেকে সর্বশেষ বেনাপোল ট্রেনটি ৫ টা ২২ মিনিটের সময় কোটচাঁদপুর ছেড়ে গেছেন। তবে কখন চ্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে তা তিনি বলতে পারেননি। কর্মবিরতিতে সকাল থেকে কোটচাঁদপুর স্টেশনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
একুশে সংবাদ/বিএইচ
আপনার মতামত লিখুন :