আজ মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষা আন্দোলনের মহান শহিদদের স্মরণে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়েছে।
একুশের প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ক্যাম্পাসের শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত রাখা হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে প্রভাতফেরি শুরু হয়ে শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সকাল ৮টা থেকে সকল অনুষদ, বিভাগ, আবাসিক হল, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।
এদিকে শহিদদের স্মরণে সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ৫০১ নং কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, অনেক দেশ থেকে তো বটেই, আমাদের দেশ থেকেও অনেক ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কারণ এসব ভাষা সংগ্রাম করে টিকে থাকতে পারেনি। টিকে থাকার এই লড়াইয়ে আমাদের বাংলা ভাষা শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে। যার পিছনে অবদান রেখেছেন আমাদের মহান ভাষা শহিদরা। এবং পরবর্তী সময়ে অনেকের হাত ধরে বাংলা ভাষার আধুনিকায়ন ঘটেছে। খেয়াল করলে দেখা যাবে, বিদ্যা শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজের ভাষায় পড়তে যে আগ্রহ থাকে, ইংরেজি বা অন্য ভাষায় কিন্তু সেটা থাকে না। সেকারণে শিক্ষার্থীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজিতে পড়তে আসে, তারা বই পড়েও অনেক কিছু বুঝতে পারে না। এর কারণ ভাষা শিক্ষার শিক্ষকের অভাব। আর শেখার জন্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও কোনো ভাষা কেন্দ্র নেই। শিক্ষার্থীদের ভাষাজ্ঞান বাড়ানো এবং একটা আয়ের উৎস হিসেবেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা কেন্দ্র থাকা আবশ্যক। তাই আমরা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই ভাষা কেন্দ্র চালু করার চেষ্টা করছি।
এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির চেতনার একটি জায়গা। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে জুলাই অভ্যুত্থান এবং যুগে যুগে আত্মমর্যাদা ও অধিকার আদায়ের সকল সংগ্রাম একই সূতায় গাঁথা। একুশ আমাদের মুক্ত-স্বাধীন হয়ে কথা বলার শিক্ষা দেয়। নিজের দাবির বিষয়ে সচেতন হতে এবং আদায় করতে শেখায়। আসলে রক্তেই আমাদের বিপ্লব আর চেতনায় জায়গা হলো একুশ। একুশই আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়তে পথ দেখিয়েছে।
সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিবস উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মজনুর রশিদের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন মানবিকী অনুষদের ডিন মো. আব্দুর রহমান, প্রক্টর ড. আরিফুজ্জামান রাজীব, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুকান্ত বিশ্বাস, ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক ড. রাজিবুল ইসলাম ও অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মনিরুল হাসান। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও দিবসের কর্মসূচি হিসেবে মহান ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগকৃত সকল শহিদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল ও বিকেলে মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
একুশে সংবাদ/ এস কে
আপনার মতামত লিখুন :