মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার অবৈধ তিন ইটভাটার মধ্যে চলতি মৌসুমে পুরোদমে চলছে দুইটি ইটভাটা। আইন লঙ্ঘন করে ফসলি জমি, লোকালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে গড়ে উঠেছে ভাটাগুলো। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা সত্তেও বছরের পর বছর অবৈধ এসব ভাটা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বছরে একবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়না এসব ভাটাগুলো। অবৈধ এসব ইটভাটার কারণে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি পাশর্বর্তী জমির ফসলের উৎপাদনও কমে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, হরিরামপুরে তিনটি ইটভাটা রয়েছে। আমিন ব্রিকস, সততা ব্রিকস ও স্বাধীন ব্রিকস। চলতি মৌসুমে আমিন ব্রিকস বন্ধ থাকলেও বাকি দুইটি ভাটা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিবছরই একবার ভাটায় অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন। অভিযানে নামমাত্র জরিমানা করা হলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়না ভাটাগুলো।
জানা যায়, চলতি মৌসুমে গতবছরের নভেম্বর মাসে ভাটাগুলো চালু হলেও প্রায় সাড়ে তিন মাস পর গত ৩ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আহসান উল হক। অভিযানে সততা ও স্বাধীন ব্রিকসকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানার পাশাপাশি কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। অথচ, সেই নির্দেশ অমান্য করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তারা।
মুঠোফোনে মো. আহসান উল হক বলেন, ‘তাদেরকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি মনিটরিং করবে পরিবেশ অধিদপ্তর।’ তবে, বদলিজনিত কারণে উপপরিচালক পদটি শুন্য থাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগে ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহের নিগার তনুর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সততা ও স্বাধীন ব্রিকসকে ৪ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয় এবং স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরের মৌসুমে আবারও চালু করা হলে ২০২৪ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজিদ আহমেদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে আমিন ব্রিকসকে ৫ লাখ, সততা ব্রিকসকে ৫ লাখ এবং স্বাধীন ব্রিকসসে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশও দেওয়া হলেও বন্ধ হয়নি ভাটা।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) সরজমিনে দেখা যায়, ভাটা দুইটিতে পুরোদমে চলছে ইট পোড়ানোর কার্যক্রম। মাটি প্রস্তুত, ইট তৈরি, শুকানো ও পোড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। আগের পোড়ানো ইট ট্রলি ও ট্রাকযোগে নিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতারা। ইট পোড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ। ইট তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ফসলি জমির মাটি। বিভিন্ন এলাকা থেকে ফসলি জমির মাটি পরিবহনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক। আশপাশের ফসলি জমিতে ধুলার স্তর পড়ে নষ্ট হচ্ছে ফসল।
সততা ব্রিকসের মালিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোসলেম উদ্দিন কুন্নু, হাজী আলমগীর ও নইমুদ্দিন। সরজমিনে তাদের কাউকে ভাটায় পাওয়া যায়নি। কুন্নুর মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া, হাজী আলমগীর এর মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে কেটে দেন।
অপরদিকে স্বাধীন ব্রিকসের ৬ জন অংশীদার থাকলেও তাদের নেতৃত্বে ছিলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শীতল চৌধুরী। কিন্তু, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য মো. হান্নান। সরজমিনে ভাটায় গেলে তাই হান্নানের সাথে কথা বলতে বলেন দুই অংশীদার শীতল ও সজিব। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মো. হান্নান বলেন, ‘অভিযানের দিন আমি ছিলাম না। ভাটার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশের বিষয়ে আমার জানা নেই।’
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোহিনুর আক্তার বলেন, অবৈধভাবে ভাটা চালানোর সুযোগ নেই। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একুশে সংবাদ/বিএইচ
আপনার মতামত লিখুন :