ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ ক্লাস শিক্ষকের বিরুদ্ধে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে বহিষ্কার। থানায় মামলা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার। এমন ঘটনাটি ঘটে ভাঙ্গা উপজেলার সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ক্লাস টিচার সহ তিন জনের নামে মামলা। প্রধান আসামি ক্লাস শিক্ষক সবুজ হাওলাদার কে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ।
অন্য আসামীরা হচ্ছে, কম্পিউটার অপারেটর বশিরউল্লাহ ও প্রধান শিক্ষকের সহযোগী(খন্ডকালীন)জনি। সবুজ কম্পিউটার অপারেটর হয়েও ক্লাস নিতেন। কম্পিউটার অপারেটর সবুজ ও বশিরকে বহিষ্কার করেছেন বলেন নিশ্চিত করেন প্রধান শিক্ষক হায়দার হোসেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ-বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে গত বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল দশটার দিকে ওই শিক্ষার্থীকে মিথ্যা প্রলোভনে বিদ্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর বশীরউল্যাহ একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে কথা আছে বলে বসিয়ে রাখেন।
পরে ক্লাস টিচার (কম্পিউটার অপারেটর) সবুজ হাওলাদার এসে ওই শিক্ষার্থীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গায়ে হাত দিয়ে তার সঙ্গে কথা আছে বলে জোরপূর্বক বসানোর চেষ্টা করে। তখন ওই শিক্ষার্থী ভয়ে দ্রুত রুম ত্যাগ করেন। এসব ঘটনা অন্য ক্লাসের কিছু শিক্ষার্থীরা দূর থেকে দেখে ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে তারা প্রধান শিক্ষককে জানান।
প্রধান শিক্ষক হায়দার হোসেন মঙ্গলবার সকালে সবুজ হাওলাদার ও বশিরুল্লাহকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেন। তিনি আরো জানান এরা খন্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিল। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভকারীরা সারাদেশে বহু শিক্ষার্থীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন সেই বিষয়ে ধর্ষকদের বিচার দাবিতে তারা ভাঙ্গা বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক পরিদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হন।
এ বিষয়ে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ওসমান গনি আকাশ বলেন, ভাঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি চলে, একাধিকবার অপরাধ ধরিয়ে দেওয়ার পরেও তারা বহাল তবিয়তে থাকেন, খন্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটরকে দিয়ে নিয়ম বহির্ভূত শিক্ষার্থীদের ক্লাস করান, এমন নজির কোথাও নাই, অথচ এই স্কুলে আছে, শিক্ষার্থীদেরকে মার্ক কম দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য করেন। তাদের দাবি প্রভাতী শিফটে মেয়েদেরকে বয়স্ক ও মহিলা শিক্ষকদেরকে দিয়ে পাঠ দান করানো হোক।
এ ঘটনায় স্কুলের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, অপরাধ করলে তার বিচার হবেই, আমরা ইতিমধ্যে দুজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানার সেকেন্ড অফিসার(উপ-পরিদর্শক) লোকমান হোসেন বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে একটি অভিযোগ পেয়েছি, সেখানে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে, প্রধান আসামি সবুজকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
একুশে সংবাদ/বিএইচ
আপনার মতামত লিখুন :