কোটচাঁদপুরের সেই শিশু মাহমুদাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন স্বামী শাহিন আলম। শুক্রবার (০৭ মার্চ) বিকেলে মামলা করেন তিনি। এ সময় মামলাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
মামলা সুত্রে জানা যায়,গেল ২০১৭ সালের দিকে চুয়াডাঙ্গার ভূলটিয়া গ্রামের জাকের মুন্সির মেয়ে আফরোজা খাতুনের বিয়ে হয় শাহিন আলমের। বিয়ের দুই বছর পর আফরোজার গর্ভে আসেন শিশু মাহমুদা। তাঁর জন্মের দিনই মারা যান তাঁর মা। এরপর তাকে রেখে বিদেশে চলে যান শাহিন আলম। সে থেকে মাহমুদাকে কোলে পিঠে করে বড় করেন শাহীনের দাদী সখিনা খাতুন। এভাবেই কেটে গেছে কয়েক বছর। গেল এক হল ভোমরাডাঙ্গা গ্রামের জিয়াউর রহমানের মেয়ে বন্যার সঙ্গে মোবাইলে বিদেশে থাকা অবস্থায় বিয়ে।
সে থেকে বন্যা খাতুন উভয় বাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন। এরপর গেল ০৭/০১/২৫ তারিখ শাহিন আলম বিদেশ থেকে বাড়িতে আসেন। কয়েক দিন ভালই কাটে তাদের দাম্পত্য জীবন। এর কিছু দিন পর মেয়ে মাহমুদা কে নিয়ে শুরু হয় তাদের মধ্যে কলহ।
সেই কলহের জেরে গেল ৫-০৩-২৫ তারিখ বিকেলে কৌশলে কমল পানিওয়োর সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ান। এরপর মাহমুদাকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, এরপর যশোর। পরে ঢাকা থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়িতে আসার পর সে আবারও অসুস্থ্য হযে পড়েন। এ সময় তাঁর পিতা শাহীন আলম তাকে চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শুরু হয় মাহমুদার। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গেল ৬-০৩-২৫ তারিখ দুপুরে মারা যান সে। মাহমুদা কোটচাঁদপুরের ভোমরাডাঙ্গা গ্রামের শাহীন আলমের মেয়ে। সে শিশু শ্রেনীতে পড়তেন বলে জানা গেছে পারিবারিক সুত্রে।
বিষয়টি নিয়ে শাহিন আলম বলেন,আমি বিদেশ থেকে বাড়িতে আসার পর ভালোই ছিলাম কয়েকদিন।তবে মেয়েকে সে সহ্য করতে পারতো না,সেটা তাঁর আচারনে আমি বুঝতাম। তবে তাকে যে এভাবে পরিকল্পিত ভাবে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিবেন আমি বুঝতে পারেনি।
তিনি বলেন,আমার কোন চাষাবাদ নাই। সে আমার মেয়েকে যে বিষ পান করিয়েছেন,সেটা সে পরিকল্পিত ভাবে সংগ্রহ করে খাওয়ান। তিনি এ পরিকল্পিত হত্যা কান্ডের সঙ্গে জড়িত সকল আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে ০৭-০৩-২৫ তারিখে শাহিন আলম বাদি হয়ে তাঁর স্ত্রীর নামে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে শিশু মাহমুদার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার তাঁর সৎ মা বন্যা খাতুন ও তাঁর পরিবারের সবাই এলাকা ছেড়েছেন। অন্যদিকে ঘটনাটি নিয়ে ঘৃনার সৃষ্টি হয়েছে কোটচাঁদপুরে মানুষের মাঝে। ঘৃনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম( ফেসবুক) জুড়ে। দাবি উঠেছে হত্যার দৃষ্টান্ত মূলক বিচারের।
এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন,শিশু মাহমুদা হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় বাদি হয়েছেন শিশুটির পিতা। ওই মামলায় একজনকে আসামি করা হয়েছে।
একুশে সংবাদ// এ.জে
আপনার মতামত লিখুন :