মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা সেতু উত্তর থানার মেদিনীমন্ডলে পাওয়া অজ্ঞাত ব্যক্তির খন্ডিত লাশ পরিচত মিলেছে । নিহত ব্যাক্তির নাম সাজ্জাত ইসলাম সবুজ (২৬)। তিনি ঢাকা জেলার সাভার থানার যাদুরচর, হেমায়েতপুর এলাকার ইউসুফ আলীর পুত্র।
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফিরোজ কবির জানান, শুক্রবার বিকাল ৩ টা বাজে স্থানীয়দের টেলিফোনে সংবাদ পেয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির খন্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ডিবি পুলিশ ও ক্রাইম টিম এসে লাশটি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। জানা গেছে, অজ্ঞাত ব্যক্তি লাশ সাভার এলাকার সাজ্জাত ইসলাম (২৬) নামে এক ব্যাক্তির। তার পিতার নাম ইউসুফ আলী। সাং যাদুরচর, হেমায়েত পুর, থানা :সাভার। তিনি গত ০৩/০৪/২০২৫ ইং তারিখে নিখোঁজ হলে তার মামা মো. মহসীন (৩৮) পিতা লেহাজ উদ্দিন থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন।
উল্লেখ্য যে, ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ফলের কার্টুনভর্তি ও স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় খন্ডিত লাশের একাধিক অংশ উদ্ধার করেছে পদ্মা সেতু উত্তর থানা পুলিশ।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খবর পেয়ে পদ্মা সেতু উত্তর থানা এলাকার মেদিনিমন্ডল গার্লস কলেজের পূর্ব পাশে এবং ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিসলেনের পশ্চিম পাশ ও স্হানীয় আউয়াল বেপারীর বাড়ীর উত্তর পাশ থেকে অজ্ঞাতনামা মানুষের মাথা ও শরীরের উরুর অংশের পৃথক দুটি টুকরো উদ্ধার করে পুলিশ।অন্যদিকে সকাল সাড়ে ১২টার দিকে হাত-পা-শরীরের অন্যান্য অংশ কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার মালঞ্চ এলাকায় পাওয়া গেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে শত্রুতার জের ধরে কে বা কারা অন্য কোথাও নৃশংসভাবে এ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়ে খন্ডিত অংশগুলো ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে পদ্মা সেতু উত্তর থানা ও কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় ফেলে রেখে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ধারণা করছেন। বিকেলে ও সন্ধ্যায় সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও পিবিআই টিম এসে ফিঙ্গারপিন্ট নিয়ে লাশ শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে থানা পুলিশ জানায়।
পদ্মা সেতু উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.জাকির হোসেন জানান, এলাকাবাসীর মাধ্যমে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন পেয়ে মেদিনীমন্ডল গার্লস কলেজের পাশ থেকে মাটিতে পড়ে থাকা স্কচটেপে মোড়ানো পুরুষ মানুষের মাথা ও শরীরের উরুর দুটি টুকরা পাওয়া যায়।অন্যদিকে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হাত-পা-শরীরের অন্যান্য অংশ কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় পাওয়া যায়। পৃথকস্থানে প্রাপ্ত খন্ডিত মরদেহটি একই ব্যক্তির বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে। লাশ শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা অন্য কোথাও এ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়ে লাশের অংশগুলো এখানে ফেলে রেখে গেছে।
কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার অফিসারইনচার্জ (ওসি) মো: সোহরাব আল হোসাইন জানান , সকাল সাড়ে ১২টার দিকে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার মালঞ্চ এলাকায় মানবদেহের হাত-পা-শরীরের খন্ডিত অন্যান্য অংশ পাওয়া গেছে। লাশ একই ব্যক্তির কিনা খন্ডিত অংশগুলো মেলালে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এটা নিশ্চিত বলতে পারবেন। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও এ হত্যাকান্ড ঘটিয়ে লাশের অংশগুলো এখানে ফেলে রেখে গেছে বলে তিনি জানান।
একুশে সংবাদ//এ.জে
আপনার মতামত লিখুন :