অনুকূল আবহাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে সজনে ডাটার ফলন ভালো হয়েছে। জেলার প্রতিটি গ্রামে বাড়ির পাশে, পতিত জমিতে, রাস্তার পাশে প্রতিটি সজনে গাছের শাখা-প্রশাখা নুয়ে পড়ছে ডাটার ভারে। এতে বিক্রি করে সংসারে অবদান রাখতে পারায় খুশি কৃষক ও গৃহিণীরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কোথাও বাণিজ্যিকভাবে সজনে ডাটার চাষাবাদ না হলেও" রাস্তার ধারে ফাঁকা জায়গায় বাড়ির আঙিনায় আমবাগানের মাঝে ও জমির সীমানায় শজনে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে ডাটা। বাম্পার ফলনের পাশাপাশি দাম ভালো থাকায় খুশি গৃহিণী, বাড়ির কর্তা ও সবজি বিক্রেতারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায়, এখনো কিছু কিছু গাছে সজনে ডাটার ফুল ফুটে আছে। তবে প্রায় ৯০ শতাংশ গাছেই ঝুলছে ডাটা।
গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের চাষি নাইম ইসলাম বলেন, বাণিজ্যিকভাবে কোনো কৃষক জমিতে সজনে চাষ করেন না। বাড়ির চারপাশে সবাই সজনে গাছ লাগান। গাছগুলো লাগাতে কোনো খরচ হয় না। প্রতি মৌসুমে ২ হাজার টাকার ডাটা বিক্রি করা যায়। এবার গাছে যে পরিমাণ ডাটা ধরেছে, তাতে আমি ৫-৭ হাজার টাকার ডাটা বিক্রি করতে পারবো।
মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে হাটবাজারে এর দাম কমে এসেছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে সজনে ডাটা।
নাচোল উপজেলার কসবা গ্রামের কৃষক আলমগীর বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছর সজনের সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে। প্রতি বাড়িতে কমবেশি গাছ আছে। সজনে পুষ্টিকর সবজি হিসেবে ব্যাপক চাহিদা থাকায় আমরা এ সবজি বাড়ির আঙিনায় চাষ করে থাকি ।ভোলাহাটের গৃহিণী শাহনাজ পারভীন বলেন, বাড়ির আশপাশে চারটা গাছ থাকায় কয়েক দিন থেকে তরকারির চিন্তা করতে হয় না। এমনকি পাশের দোকানে বিনিময় করে অন্য তরকারি নিই। এ বছর শজনে ডাটার কিছুটা আগাম ফলন ও কোনো রোগবালাই না থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। এমনকি সজনে ডাটা বিক্রি করে আঁচলে কিছু টাকা রাখতে পারছি` যা সংসারের অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারছি।`
কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সরকার জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে এবং কোনো রোগবালাই না থাকায় সজনে ডাটার খুবই ভালো ফলন হয়েছে। নিরাপদ সবজি হিসেবে দাম ভালো পাওয়ায় দিন দিন এর চাষ বেশি হচ্ছে। সাধারণত অন্য ফসলের মতো সজনে গাছের জন্য চাষাবাদ কিংবা রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় না। নিজ বাড়ির পাশে, ক্ষেতের আইলে অথবা রাস্তার দুপাশে সজনে গাছের ডাল লাগিয়ে দিলেই হয়। এটি খাওয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এটি বিভিন্ন তরকারির সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যায়। সজনের ডাটায় প্রচুর পরিমান ভিটামিন উপাদান রয়েছে। সজনে চাষে আমাদের লক্ষমাত্রা না থাকলেও এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের আশে পাশের এলাকায় ব্যাপক উৎপাদন হয়। এলাকা থেকে সজনে কিনে নিয়ে পাইকাররা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রফতানি করে চাষি ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন।
একুশে সংবাদ/বিএইচ
আপনার মতামত লিখুন :