আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা চলতি আম মৌসুমে কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। প্রায় সাত মাসের খরার পর মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত থেমে থেমে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। এতে আমচাষিদের মধ্যে স্বস্তির পাশাপাশি নতুন আশাও দেখা দিয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় গড়ে ৫ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাটে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও বজ্রসহ বৃষ্টিতে ঝড় কিংবা শিলাবৃষ্টি না হওয়ায় বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি।
চলতি চৈত্র মাসের প্রথম দিকেও ভোরে শীত অনুভূত হচ্ছিল, কখনও দেখা যাচ্ছিল কুয়াশা। এই বৃষ্টিপাতের ফলে আবহাওয়ার স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, “এ সময়ের হালকা বৃষ্টি আম, ধানসহ সব ফসলের জন্য উপকারি। এখন পর্যন্ত আমচাষে তেমন কোনো সমস্যা নেই।”
কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় বর্তমানে ৩৭ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে প্রায় ৮১ লাখ ৪৫ হাজার আমগাছ রয়েছে। এদের ৯২ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে এবং গুটি ইতোমধ্যেই বড় হতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমের আবহাওয়া আমচাষের জন্য বেশ অনুকূল বলেও জানানো হয়।
কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “ব্যাপক মুকুল আসলেও বৃষ্টির অভাবে অনেক গুটি ঝরে গেছে। এই বৃষ্টিতে সেই ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে যাবে।”
আমচাষি ও রপ্তানিকারক ইসমাইল খান শামীম বলেন, “গুটি ঝরার সময় এই বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। বৃষ্টির ফলে গুটির বৃদ্ধি বাড়বে, বোঁটা শক্ত হবে এবং আম ঝরার হার কমে যাবে।”
চলতি মৌসুমে হেক্টরপ্রতি ১০.৩ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে মোট ৩ লাখ ৮৬ হাজার ২৯০ টন আম উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। তবে সংশ্লিষ্টরা আরও বেশি উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছেন।
উল্লেখ্য, গত মৌসুমে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ২৭৮ টন আম উৎপাদিত হয়, যেখানে ৭৩-৭৫ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছিল। ২০২৪ সালে ১৩৩ টন আম বিদেশে রপ্তানি হয়, যা আগের বছর ছিল ৩৭৬ টন।
বৃষ্টিপাতের ফলে ক্ষতিকর পোকার উপদ্রবও হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে গাছের গোড়ায় সেচের প্রয়োজনীয়তা এখনও রয়েছে।
এই বৃষ্টির সুবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষিরা এখন অপেক্ষায় থাকছেন বাম্পার ফলনের জন্য।
একুশে সংবাদ//এ.জে
আপনার মতামত লিখুন :