টেকনাফ সীমান্তবর্তী নাফ নদী থেকে বাংলাদেশের দুই জেলেকে অস্ত্রের মুখে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি । বুধবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বগার দ্বীপ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অপহৃত দুই জেলে হলেন—হোয়াইক্যংয়ের বালুখালি এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে বাদশা আলম (৪৫) এবং রশিদ আহমদের ছেলে আবুল কালাম (৪০)।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহাফুজ জানান, “নাফ নদীতে মাছ ধরতে গেলে প্রায় সময় জেলেরা আরাকান আর্মির মুখোমুখি হন। তারা নৌকা, জাল, এমনকি মানুষ ধরে নিয়ে যায়। এতে আমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকি।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা বলেন, “প্রতিদিনের মতো নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেরা অপহরণের শিকার হন। আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে নিয়ে যায়।”
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা শুনেছি। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন মহলে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারবার এ ধরনের ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। নাফ নদী পার হয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জেলে অপহরণের ঘটনা কেবল মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, এটি বাংলাদেশের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
স্থানীয় জেলে ও মৎস্যজীবীদের দাবি, নাফ নদী ও তার আশপাশে টহল জোরদার করতে হবে এবং অপহৃত জেলেদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরালো করতে হবে।
একুশে সংবাদ// আ.ট//এ.জে
আপনার মতামত লিখুন :