প্রধান বিরোধী দল ছাড়াই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ায় জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে। একতরফার এই নির্বাচনে দেশটিতে গত ৩৮ বছর প্রধানমন্ত্রীর পদ দখল করে থাকা ক্ষমতাসীন কম্বোডিয়ান পিপলস পার্টির (সিপিপি) নেতা হুন সেন সহজ জয় পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বিবিসি’র।
রোববার (২৩ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
কম্বোডিয়ায় সিপিপির প্রধান বিরোধী দল ক্যান্ডেললাইট পার্টি আজকের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। নিবন্ধনসংক্রান্ত ত্রুটির অজুহাত দেখিয়ে গত মে মাসে দলটিকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ফলে প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের দল সিপিপি কম্বোডিয়ার জাতীয় পরিষদের ১২৫ আসনের সব কটিই আবার পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষমতাসীন সিপিপির পাশাপাশি যে ১৭টি ছোট দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে সিপিপিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সক্ষমতা তাদের কারও নেই। দেশটির নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, আজকের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৯৭ লাখ।
গণতন্ত্র, নির্বাচন, ভোটাধিকার– এর সবই যেন কাগুজে বিষয় কম্বোডিয়ায়। ১৯৮৫ সালে ৩৩ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রীর পদ দখল করে দেশটিতে গণতন্ত্রের নামে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছেন সিপিপি নেতা হুন সেন। এরই মধ্যে আদালতকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীকে একেবারে নিঃশেষ করে দিয়েছেন তিনি। ফলে এই নির্বাচনও ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মতোই হবে বলে ধারণা বিশ্লেষক ও রাজনীতিবিদদের। তারা বলছেন, অন্য সব স্বৈরশাসকের মতোই হুন সেনও কখনোই ক্ষমতা ছাড়বেন না।
২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তিনি আদালতকে ব্যবহার করে বিরোধী দল ভেঙে দেন। শুধু তাই নয়, বিরোধী দলের এমপি পদমর্যাদার নেতাদের সংসদ সদস্যপদ বাতিল করা হয়। কারাবন্দি করা হয় অন্য নেতাদের। প্রতিপক্ষকে নির্মূল করে ছয় মাস পর নির্বাচন দেন তিনি। ওই নির্বাচনে ভোট কারচুপি করে সংসদের ১২৫টি আসনের সবকটিতেই জয়ী ঘোষণা করা হয় হুন সেনের দল সিপিপিকে।
এই নির্বাচনের আগেও ক’দিন ধরে বিরোধীদের ওপর চালানো হয়েছে চরম ধরপাকড়। আজকের নির্বাচন কেমন হবে, সে সম্পর্কে দেশটির সাবেক মহিলা ও প্রবীণবিষয়কমন্ত্রী মু সোচুয়া বলেন, হুন সেন কখনোই ক্ষমতা ছাড়বেন না। এই নির্বাচন হুন সেনের জন্য কম্বোডিয়ার জনগণের ওপর তাঁর পছন্দ চাপিয়ে দেওয়ার দিন ছাড়া আর কিছুই নয়। রাজধানী নমপেনের এক ভোটার বলেন, এই নির্বাচন আসলে অর্থহীন। এতে সংসদে গিয়ে জনগণের কথা বলার মতো কেউ নেই। তাই মানুষের আগ্রহও নেই।
দীর্ঘ শাসনে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে কম্বোডিয়ার ক্ষমতা ধরে রেখেছেন হুন। এখন নিজের ছেলেকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে ক্ষমতা ছাড়তে চান তিনি। আজকের নির্বাচনে তাঁর ছেলে সেনা কর্মকর্তা হুন মানেত এমপি পদে দাঁড়িয়েছেন।
এশিয়ার দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি কম্বোডিয়া। দেশটি ডুবেছে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মে; নেই কোনো জবাবদিহিও।
একুশে সংবাদ/য/এসএপি
আপনার মতামত লিখুন :