AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩০

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

কে বসছেন দিল্লিবাড়ির মসনদে?


Ekushey Sangbad
হাসান কাজল
০৭:৫০ পিএম, ২ জুন, ২০২৪
কে বসছেন দিল্লিবাড়ির মসনদে?

জনসংখ্যার অনুপাতে পৃথিবীর বৃহৎদেশ প্রতিবেশি ভারত । ১ জুন শেষ হলো দেশটির ১৮তম লোকসভা নির্বাচন। ৭ ধাপে ৫৪৩টি আসনে এই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে ৪৪দিন সময় লেগেছে। মঙ্গলবার (৪ জুন) ফলাফল ঘোষণা করা হবে এই নির্বাচনের। কে আসছেন দিল্লিবাড়ীর মসনদে? ফিরবে এনডিএ? ধাক্কা দেবে  ’জোট ইন্ডিয়া’? কী বলছে বুথফেরত সমীক্ষা? রাজনৈতিক সমীক্ষা অথবা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে আছে আত্মপ্রত্যয়ের সূর।

ভারত ২৮টি রাজ্য ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিয়ে ৩লক্ষ ৭০২ কিলোমিটার আয়তনের দেশটির মোট জনসংখ্যা ১৪২ কোটি। মোট ভোটার সংখ্যা ৯৬.৮ কোটি।  ধর্মীয় বিভাজন ইস্যু হয়নি। সামনে এসেছে বেকারত্ব। ইস্যু হয়নি ৪০০ পারের স্লোগান। মানুষ ভেবেছে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে। তাই আত্মবিশ্বাসী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া,আত্মবিশ্বাসী কংগ্রেস। সোনিয়া গান্ধীর দলের গোপন অভ্যন্তরীণ রিপোর্টেও তার ইঙ্গিত। কংগ্রেস মনে করছে, ৩১৬’র বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসছে ‘ইন্ডিয়া’। সবচেয়ে বড় কথা, এই রিপোর্টে কংগ্রেস নিজেদের প্রাপ্তির হিসেবই করেনি। পুরো অঙ্কটাই হয়েছে জোটের। বাংলায় জোটবদ্ধ হয়ে ইন্ডিয়া লড়ছে না। তা সত্ত্বেও এই রাজ্যে তৃণমূলসহ শরিকদের মিলিত হিসেবই কষেছে রাহুল গান্ধীর দল। সেইমতো বাংলায় ৪২ আসনের মধ্যে ৩৪ আসন তারা ধরেছে ইন্ডিয়ার জন্য। বিজেপির ভাগে রয়েছে মাত্র  ৮টি  আসন।

পশ্চিমবঙ্গের মতোই মহারাষ্ট্রে ৪৮ আসনের মধ্যে বিজেপি বিরোধী মহাবিকাশ অগাড়ি জোট ৩০ আসন পেতে পারে বলেই কংগ্রেসের হিসেব। দিল্লিতে সাতে সাত। বিহারে আরজেডি-কংগ্রেসের জোট ৩০। রাজস্থানে গতবার শূন্য ছিল কংগ্রেস। এবার মোদি বিরোধী জোট ১৩-১৬ আসন পেতে পারে বলেই হিসেব কংগ্রেসের। উত্তরপ্রদেশে ২২ আসনের বেশি ধরে রেখেছে ইন্ডিয়া। এমনকী গুজরাতেও কংগ্রেস-আপ সব মিলিয়ে দশের কাছাকাছি আসন আশা করছে। তামিলনাড়ু, কেরালা, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, পাঞ্জাবে বিজেপি শূন্য। জগন্মোহন রেড্ডি, বিজেডি, শিরোমণি আকালি দল, বিআরএসের মতো দল, যারা কোনও জোটেই নেই, তাদের সম্মিলিত প্রাপ্তি ৩৪ হতে পারে বলেই কংগ্রেস মনে করছে।

২ জুন দেশজুড়ে সপ্তম অর্থাৎ শেষ দফার ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এই দিন ছিল বাংলার ৯টি-সহ মোট ৫৭ আসনে নির্বাচন। ভাগ্যপরীক্ষা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কঙ্গনা রানাউত, অনুরাগ ঠাকুর থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একঝাঁক হেভিওয়েটের। এবারের নির্বাচনের শুরু থেকেই চারশো পারের স্লোগান তুলেছিল গেরুয়া শিবির। প্রথম দিকের প্রচারে মোদি থেকে অমিত শাহ, প্রত্যেককে বলতে শোনা গিয়েছিল এবার চারশোর বেশি আসন জিতে ক্ষমতায় ফিরবে এনডিএ। তবে ভোটপর্ব মিটতেই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলে দেন, ২৯৫-এর বেশি আসন জিতে দিল্লির দখল নেবে ইন্ডিয়া জোট। চূড়ান্ত ফল পরিষ্কার হবে আগামী ৪ জুন।

প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, জাতভিত্তিক সমর্থন, নির্বাচনী প্রচার সভায় ভোটারদের সমর্থন, দলীয় শক্তি-সহ একাধিক কারণের ভিত্তিতে সাট্টা বাজারে বাজির দর ওঠানামা করে। সাত দফার নির্বাচন শেষ। এখন অপেক্ষা শুধু ফলাফলের। তৃতীয় বারের জন্য কি নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ সরকার গঠন করবে, নাকি বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ সব হিসাব উল্টে দেবে? ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই চ্যানেলে চ্যানেলে চলছে সেই নিয়ে আলোচনা। বুথফেরত সমীক্ষা নিয়েও কাঁটাছেঁড়া চলছে।

একাধিক বুথফেরত সমীক্ষাতেই এগিয়ে এনডিএ। ইঙ্গিত, শরিকদের নিয়ে তৃতীয় বার কেন্দ্রে সরকার গড়তে চলেছেন নরন্দ্র মোদী। তবে ‘৪০০ পার’ হবে কি না তা নিয়েই জল্পনা-কল্পনা চলছে। কয়েকটি বুথফেরত সমীক্ষা এনডিএ-কে ৪০০-এর বেশি আসন দিয়ে রেখেছে। আবার কয়েকটি সমীক্ষা সংশয় প্রকাশ করেছে।

বুথফেরত সমীক্ষার মতো আর একটি জায়গার ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ নিয়ে কৌতূহল রয়েছে মানুষের মনে। সেটি সাট্টা বাজার। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কী বলছে ভারতের অন্যতম সাট্টা বাজার ফলোদী? বুথফেরত সমীক্ষার সঙ্গে কি মিলিয়ে দিচ্ছে ফলাফল নাকি অন্য কোনও আভাস দিচ্ছে? ৫৪৩ লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কোন দল সরকার গড়বে? ভবিষ্যৎ আঁচ করে সাট্টা বাজারে বাজি ধরেন বুকিরা।

লোকসভা নির্বাচন নিয়ে কী বলছে ফলোদীর সাট্টা বাজার? ‘ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুথফেরত সমীক্ষার মতোই ফলোদীর সাট্টা বাজার এনডিএ-কে এগিয়ে রাখছে। বাজারের পূর্বাভাস, এনডিএ পেতে পারে ৩৫০-৩৫৫ আসন। একা বিজেপি জিততে পারে ৩০৩-৩০৫ আসন। বিজেপি বিরোধী জো়ট ‘ইন্ডিয়া’ ৮০-৮৫টি আসন জিততে পারে এ বারের নির্বাচনে।

প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, জাতভিত্তিক সমর্থন, নির্বাচনী সভায় ভোটারদের সমর্থন, দলীয় শক্তি-সহ একাধিক কারণের ভিত্তিতে সাট্টা বাজারে বাজির হার ওঠানামা করে। ২০১৪ ও ২০১৯ সালে দেশ জুড়ে ৭০ আসনের গণ্ডি পেরোবে না কংগ্রেস— ফলোদীর সাট্টা বাজারের এই পূর্বাভাস মিলে গিয়েছিল। এখন দেখার বিষয় ২০২৪ সালেও সেই ধারা বজায় থাকবে কি না।

ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাস বলছে, বুথফেরত সমীক্ষার ইঙ্গিত যে সব সময় মেলে, এমন নয়। বুথফেরত সমীক্ষা একেবারে ভুল প্রমাণিত হওয়ার উদাহরণও অসংখ্য। বুথফেরত সমীক্ষার মতোই সাট্টা বাজারের পূর্বাভাস কখনও মেলে, আবার কখনও মেলে না।এই বাজারের ফলাফলের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও নেই। কোনও ভাবেই এটা জনমত সমীক্ষা নয়।

শেষ হয়েছে লোকসভা নির্বাচনের ভোটপর্ব। মঙ্গলবার গণনা। তার আগে এক্সিট পোলের ইঙ্গিত, অনায়াসে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করতে চলেছে এনডিএ। এই পরিস্থিতিতে বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘ফেক’ বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তৃণমূল সুপ্রিমো জানিয়ে দিলেন, ইন্ডিয়া জোট সরকার গড়লে সেখানে যোগ দিতেই পারে তাঁর দল। কিন্তু এখনই এই নিয়ে ভাবতে রাজি নন তিনি।

পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইন্ডিয়া জোট  কি ক্ষমতায় আসতে পারে? মল্লিকার্জুন খাড়গে শনিবারই দাবি করেছেন, তাঁরা ক্ষমতায় আসবেন ২৯৫ আসনে জিতে। এপ্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বলছেন, কোনও আসনসংখ্যা সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী করতে রাজি নন তিনি। তবে আলাদা করে বাংলার এক্সিট পোল নিয়ে বলতে গিয়ে মমতা জানিয়েছেন, যা বলা হচ্ছে সবই ‘ফেক’। কর্মীদের মনোবল না হারানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।

কিন্তু ইন্ডিয়া জোট যদি সরকার গড়ে তাহলে কি থাকবে তৃণমূল? এপ্রসঙ্গে মমতার দাবি, সেরকম পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি বৈঠকে যাবেন। তার পর সবদিক খতিয়ে দেখে ক্যালকুলেশনের পরে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এখনই এই ধরনের ‘অর্বাচীন’ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব নয় বলেই ক্ষোভের সুরে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, সিপিএম কেন জোটের মুখপাত্র হবে? তাঁর কথায়, ”সিপিএম এদের মনিটরিং করে। ওরা কেন মুখপাত্র হবে? আমার এই নিয়ে প্রশ্ন আছে।” পাশাপাশি তাঁর হুঁশিয়ারি, ”মোদিকে  যাঁরা জিতিয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের বলি, এ বার কিন্তু অত সহজ অঙ্কে, অত সহজে পার পাওয়া যাবে না।”

প্রসঙ্গত, ১ জুন শনিবারই বৈঠক করে ইন্ডিয়া জোট। ভোটের পর তাদের রণনীতি ঠিক করতেই ওই বৈঠক করেন খাড়গেরা। কিন্তু সেই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিল ঘাসফুল শিবির। মমতা আগেই জানিয়েছিলেন, রেমাল ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ শিবির ও শেষ দফার ভোটে ব্যস্ত থাকার কারণে বৈঠকে থাকতে পারবে না তৃণমূল। এদিকে খাড়গেকে  এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ”আমরা জোটবদ্ধ আছি, বিভাজনের চেষ্টা করবেন

 

একুশে সংবাদ/হ.ক.প্র/জাহা

 

Link copied!