মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯৪ জনে পৌঁছেছে, আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৬৭০ জন। শনিবার (২৯ মার্চ) জান্তা সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপি।
শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে দেশটিতে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সাগাইং থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে, যা রাজধানী নেপিদো থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।
ভূমিকম্পের প্রভাব শুধু মিয়ানমারে সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, চীন, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামেও।
গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি ও অবকাঠামোর ধ্বংস
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে মিয়ানমারের ঐতিহাসিক সাগাইং সেতু ধসে পড়েছে। এছাড়া মান্দালয়, নেপিদো, পিনমানা, অউংবান ও ইনলে অঞ্চলে বেশ কয়েকটি ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে।
ইয়াঙ্গুন-মান্দালায় এক্সপ্রেসওয়ের ওপর নির্মিত দোথেতাওয়াদি সেতুও ধসে পড়েছে। ৩৬২ মাইল দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেশ কিছু এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জরুরি অবস্থা ও উদ্ধার অভিযান
শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দেশটির জান্তা সরকার ছয়টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। এসব অঞ্চল হলো— সাগাইং, মান্দালয়, ম্যাগওয়ে, বাগো, ইস্টার্ন শান রাজ্য এবং নেপিদো।
জান্তা সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির তদন্ত ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয় করবেন।
পরবর্তী আফটারশক ও কম্পন
ভূমিকম্পের পর অন্তত ১৪টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ আফটারশকের মাত্রা ছিল ৩ থেকে ৫ এর মধ্যে। সবচেয়ে শক্তিশালী আফটারশকটি ছিল ৬ দশমিক ৭ মাত্রার, যা মূল ভূমিকম্পের মাত্র ১০ মিনিট পর আঘাত হানে।
তথ্য প্রবাহে বাধা ও পরিস্থিতি
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার জান্তা সরকারের শাসনে রয়েছে, যা দেশটিতে তথ্য প্রবাহের ওপর বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। দেশটির সরকার গণমাধ্যমের প্রায় সব মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে, যার মধ্যে টেলিভিশন, রেডিও, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়া অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ বিদ্যমান।
এই ভয়াবহ দুর্যোগের পরও সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
একুশে সংবাদ// জা.নি//এ.জে
আপনার মতামত লিখুন :