দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত দেশটির প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে অপসারণের রায় দিয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এই রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।
আদালত জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারি করে প্রেসিডেন্ট ইউন জনগণের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছেন। এ কারণে তাকে পদচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ইউন গত বছরের ৩ ডিসেম্বর এক সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সামরিক আইন ঘোষণা করেন। তিনি তখন দাবি করেছিলেন, সরকারে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি এবং উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অনুপ্রবেশ করেছে।
তবে ইউনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেন দেশের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা আদালতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইউন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের আটক করতে এবং সংসদে সামরিক শাসন প্রত্যাহারের বিষয়ে ভোটাভুটি ঠেকাতে সংসদ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ঘটনার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সংসদে আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্ট ইউনের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পাস করেন। ফলে গত বছরের ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইউন কার্যত প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বরখাস্ত হন। তবে চূড়ান্তভাবে পদচ্যুতি নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক আদালতের ছয়জন বিচারকের সম্মতি প্রয়োজন ছিল।
এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় ইউন ওই সময় পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন, যদিও তার কোনো কার্যকর নির্বাহী ক্ষমতা ছিল না।
অবশেষে শুক্রবারের রায়ে আদালত ইউন সুক-ইওলকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণ করে জানিয়ে দেয়, ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
একুশে সংবাদ//এ.জে
আপনার মতামত লিখুন :