বিপদ সীমার ওপর দিয়ে বয়ে চলা তিস্তার জলে তীরবর্তী জেলার ডিমলা উপজেলার নিমাঞ্চলের ১৫টি গ্রামের পাঁচ হাজারের বেশি পরিবার এখন বানভাসি। বুধবার সন্ধ্যার আগে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে বয়ে গেলেও সন্ধ্যার পর ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
তিস্তার উৎপত্তিস্থল ভারতের উত্তর সিকিমে চুংথাং। সে ই সিকিমে বৃহস্পতিবার সকালেও ভয়াবহ পরিস্থিতি। ২৯ মাইল এলাকার কাছে বড়সড় ধস নামে। এর ফলে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক (সাবেক ৩১এ জাতীয় সড়ক) এখন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তিস্তা ব্রিজ থেকে সিকিম যাওয়ার পথে বেশ কিছু জায়গায় বড় আকারের ধসের কারণে জাতীয় সড়ক নিচের দিকে বসে গিয়েছে।
এরই মধ্যে জাতীয় সড়কের বিভিন্ন জায়গা ধীরে ধীরে তিস্তা গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। ড্যাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উজানে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে গজলডোবা ও দোমুহুনী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেখানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত নদীর ভাঁটি অঞ্চল বাংলাদেশ অংশেও পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশফাউদ্দৌলা বলেন, যে হেতু ভারতের সিকিম থেকে তিস্তার উৎপত্তি। সেখানের পরিস্থিতি এখন ভয়ানক। যার প্রভাবে বাংলাদেশের তিস্তার পানি ফুঁসে ওঠছে পাশ^বর্তী নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়ছে।
উজানে ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে নীলফামারীতে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে তিস্তা এলাকা পরিদর্শন এবং দুপুর থেকে তিস্তা পাড়ে অবস্থান নেন জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ। তার উপস্থিতিতে বণ্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ডিমলা উপজেলা পরিষদকে ৩০ মেট্রিক টন চাল ও ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও প্রয়োজনীয় ত্রাণ মজুদ আছে।
নীলফামারীর পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাপানী, গয়াবাড়ি, ঝুনাগাছ ছাপানী, খগাখড়িবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, শৌলমারী ও কৈয়মারী ইউনিয়নের এসব এলাকায় সর্তকতা জারি করে মাইকে প্রচার শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, বুধবার বিকেল চারটায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে পাঁচ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর বিকেল পাঁচটা ও সন্ধ্যা ছয়টায় দুই দফায় বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গভীর রাতে বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, অব্যাহতভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবং মাইকিং করে তিস্তা পারের মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলছেন। ইতিমধ্যে অনেকে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন। ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত নৌকা মোতায়েন রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, তিস্তা ব্যারাজের সবকটি জলকপাট খুলে রেখে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এখন পর্যন্ত আমাদের কোন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।
একুশে সংবাদ/আ.ভ.প্র/জাহা
আপনার মতামত লিখুন :