দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য সব বাহিনীর সমন্বয়ে ২২ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। তারা আগামী ৬ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
আজ রোববার (৩১ ডিসেম্বর) সেল গঠনের চিঠি সংশ্লিষ্ট সবাইকে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উল্লিখিত নির্বাচন উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে একটি আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় ও মনিটরিং সেল গঠন করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
ওই মনিটরিং সেলে ইসির স্মার্টকার্ড প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েমের নেতৃত্বে ২১ জন অন্যান্য কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত হবে। এদের মধ্যে রয়েছেন একজন উপ-সচিব, উপ-সচিব মর্যাদার পুলিশের পাঁচজন, র্যাবের দুইজন, বিজিবির তিনজন, কোস্টগার্ডের দুইজন, আনসার ও ভিডিপির দুইজন, সেনাবাহিনীর মেজর পদ মর্যাদার চারজন, নৌবাহিনীর একজন ও বিমান বাহিনীর এক সদস্য।
এই মনিটরিং সেল আগামী ৬ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ৯ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা পরিচালনা করা হবে। এ সময়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বিভিন্ন উৎস হতে তথ্য সংগ্রহ করতে মাঠ পর্যায়ে যথাসম্ভব যাচাই-বাছাই করা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে অবহিতকরণ (দেড় ঘণ্টা পর পর) এবং জরুরি প্রয়োজনে বিশেষ প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
সেলে অন্তর্ভুক্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধি কর্তৃক নির্বাচন উপলক্ষে মোতায়েনকৃত আইনশৃঙ্খলা সদস্যদের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানাবেন। সেই সাথে ভোটকেন্দ্র বা নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সাধন করবেন।
বিভিন্ন নির্বাচনী মালামাল পরিবহন, বিতরণ এবং ভোটগ্রহণ কাজে নিরাপত্তা বিধানের জন্য মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং ও প্রিসাইডিং অফিসারদের সহায়তা করবে।
সংস্থার নিজস্ব যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত বাহিনীকে অবহিতকরণ।
রিটার্নিং অফিসার এর কার্যালয় থেকে নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকাগুলোর আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক ঘটনাবলী নির্বাচন কমিশন সচিবালয় কর্তৃক পরিচালিত ‘আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং Apps’ এ তাৎক্ষণিকভাবে অ্যান্ট্রি করত: নির্বাচন কমিশনে গঠিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে পাঠাতে হবে।
এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত উল্লিখিত সেলের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তা পাঠানো ও ৫ জানুয়ারি প্রাক-পরিকল্পনা সভায় উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আলমগীর বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে যাতে একটিও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সোচ্চার রয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি প্রাণ যেনো না যায়।’
রোববার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সভাকক্ষে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
ইসি আলমগীর বলেন, ‘কারো সম্মানহানি যেনো না হয়। কারণ প্রত্যেক নাগরিক সম্মানিত, প্রত্যেক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা সম্মানিত। কেউ যেনো কারো সম্মানে আঘাত না করেন।’
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুজাফর রিপনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. আসলাম খানসহ ৩টি আসনের সব প্রার্থীরা।
একুশে সংবাদ/বিএইচ
আপনার মতামত লিখুন :