AB Bank
  • ঢাকা
  • রবিবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩০

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ভূমধ্যসাগরে ৮ বাংলাদেশি নিহত: ২ আসামী গ্রেপ্তার


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬:১৬ পিএম, ৩ মে, ২০২৪
ভূমধ্যসাগরে ৮ বাংলাদেশি নিহত: ২ আসামী গ্রেপ্তার

অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টার সময় তিউনিসিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে ৮ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় দুই জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় হওয়া মামলার বাকি ৫ আসামিকে ধরতে চলছে অভিযান।


অবৈধভাবে সাগরপথে ইউরোপে ঢোকার প্রধান রুট লিবিয়া থেকে নৌকায় যাত্রা। দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিতে এ পথই বেশি ব্যবহার করে মানবপাচারকারীরা। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ও ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির তথ্য বলছে, এই নৌকাডুবিতে বছরে গড়ে প্রাণ হারান প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি লিবিয়ার জোয়ারা উপকূল থেকে নৌকায় করে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করে অভিবাসন প্রত্যাশীদের একটি দল। তিউনিসিয়ার উপকূলে পৌঁছালে নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় এতে ৫৩জন আরোহী ছিলেন।  

ভূমধ্যসাগরে নিহত ৮ বাংলাদেশির মরদেহ ঢাকায়, স্বজনদের হট্টগোলভূমধ্যসাগরে নিহত ৮ বাংলাদেশির মরদেহ ঢাকায়, স্বজনদের হট্টগোল
পরে ঘটনাস্থল থেকে ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ২৭ জন ছিলেন বাংলাদেশি। অন্যান্যদের মধ্যে পাকিস্তানের ৮ জন, সিরিয়ার ৫ জন, মিশরের ৩ জন নাগরিক ছিলেন। নৌকাটির চালককেও এ সময় উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত ৯ জনের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশি। আর অন্য একজন পাকিস্তানের নাগরিক।

নিহত বাংলাদেশিরা হলেন, মামুন শেখ, সজল বৈরাগী, নয়ন বিশ্বাস, রিফাত শেখ, সজীব কাজী, ইমরুল কায়েস আপন, মো. কায়সার ও রাসেল শেখ। এদের পাঁচজনের বাড়ি মাদারীপুরে আর তিনজন গোপালগঞ্জের। তাদের মরদেহ গত বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছেছে।

নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, নৌকাটিতে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় গত ১৯ এপ্রিল ঢাকার বিমানবন্দর থানায় হত্যা ও মানবপাচার প্রতিরোধে আইনে মামলা করেন নিহত সজল বৈরাগীর বাবা সুনীল বৈরাগী।

মামলাটির এজাহারে বলা হয়েছে, ২০ জনের একটি চক্র পারস্পরিক যোগসাজশে নিহতদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার করেন। তাঁরা নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও উত্তাল সাগরে ছোট নৌকায় তুলে দিয়ে পানিতে ডুবিয়ে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মৃত্যু ঘটান।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্লাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই নৌকায় থাকা আরও ১১ বাংলাদেশী দেশে ফিরেছে। তাদের মধ্যে মাদারীপুর রাজৈর উপজেলার দুজন ব্র‍্যাকের সাথে যোগাযোগ করে অভিযোগ করেছেন, ওই ৮ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় যেহেতু একটা মামলা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে বিস্তারিত উঠে আসবে আশা করছি‌।’

মামলার ৭ আসামির মধ্যে যুবরাজ কাজী ও কামাল নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে এদের যোগসাজস রয়েছে।

ডিএমপির বিমানবন্দর জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র, যারা ইন্টারন্যাশনাল বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে। এদের ডেস্টিনেশন ইউরোপ। সেভাবে চুক্তি করেই এরা আসলে যায়। এটা একটা বিশাল সিন্ডিকেট। আমরা চাই, এটার সাথে যারা সংশ্লিষ্ট তাদের  আইনের আওতায় আনতে।’

দুর্ঘটনার পর মামলা হয়, গ্রেপ্তার হয় আসামিও। তবে বেশিরভাগ ঘটনায়ই হয় না দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি-- কী এর কারণ-- এ প্রশ্ন ছিল অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের কাছে।

জাতিসংঘ অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাবেক কর্মকর্তা আসিফ মুনির বলেন, ‘এ সংক্রান্ত কোনো মামলার রায়ের মুখ এখনো আমরা দেখি নি। বিচারও খুব কম হয়েছে। যদি বিচার হয়ও সেটার সম্পর্কে মানুষ অতটা জানতে পারছে না। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে গেলে পিছপা হতে বাধ্য হয়, কারণ যিনি ভুক্তভোগী বা যে পরিবার ভুক্তভোগী তারা এ বিষয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নিতে চান না।’

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির তথ্য আরও জানাচ্ছে, অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাত্রায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন তৃতীয়।

 

একুশে সংবাদ/এনএস

Link copied!