AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

মধ্যরাত থেকে পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ


Ekushey Sangbad
জেলা প্রতিনিধি, চাঁদপুর
১২:৫৭ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
মধ্যরাত থেকে পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে ১ মার্চ শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস জাটকাসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

নিষিদ্ধ সময়ে জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে শুরু করে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় জেলেরা সব ধরনের মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকবে। দুই মাসের এই জাটকা সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে জেলার মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, সদর ও হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদী উপকূলীয় এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সভা, মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলার আনন্দ বাজার, শহরের টিলাবাড়ি, বড় স্টেশন মোলহেড, পুরান বাজার রনাগোয়াল, দোকানঘর, বহরিয়া, হরিণা ও আখনের হাট জেলেপল্লি ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জেলে তাদের মাছ ধরার নৌকা ডাঙ্গায় উঠিয়ে রেখেছেন। আবার অনেকে তাদের জালগুলো মেরামতের কাজ করছেন।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে শুরু হচ্ছে জাটকা সংরক্ষণ। এ সময় নিষিদ্ধ থাকবে সব ধরনের মাছ ধরা। এমন পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জেলেরা। তাদের অনেকেই বিকল্প কাজও জানেন না, আবার জেলেকার্ডও নেই। তাই অভাব ঘোচাতে ধারদেনাই হচ্ছে শেষ ভরসা।

চাঁদপুর বহরিয়া এলাকার জেলে মফিজ গাজী বলেন, ‘আমরা নদীতে জাল বাই, মাছ ধরি। তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে। আমরা অন্য কোনও কাজ জানি না। সরকার অভিযান দিছে আমরা তা মানি। তবে দুই মাসের অভিযান মানতে গিয়ে আমাদের খুব কষ্ট হয়ে যায়। আমাদের মরণ অবস্থা। এ দুই মাসের জন্য সরকার আমাদের যে চাল দেয় তা মাসে আমরা ত্রিশ কেজি করে পাই। তিন-চার বারে যে চাল আমরা পাই তা দিয়ে সংসার চলে না। চাল ছাড়াও একটা সংসার চালাতে আরও অনেক কিছুই লাগে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সন্তানদের পড়ালেখা আছে। কিস্তি আছে। তাই শুধু চাল নয়, পাশাপাশি আমাদের আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার আবেদন করছি সরকারের কাছে ‘

হাইমচরের চরভৈরবীর জেলে নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘রোজা শুরু হচ্ছে। এর মধ্যে ২ মাসের জন্য নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কষ্ট পোহাতে হবে। ২ মাস ও তার আগে পরে ৪ মাসের জন্য চাল দেওয়া হয় ঠিকই। কিন্তু এই চাল দিয়ে তো আর সব হয় না।’

বহরিয়া এলাকার জেলে শাহাজাহান ব্যাপারী বলেন, ‘জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। তবে এটি বাস্তবায়ন করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও তৎপর হতে হবে। আমরা জাটকা আহরণ থেকে বিরত থাকলেও একশ্রেণির জেলে জাটকা নিধন করে।’

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, ‘জাটকা সংরক্ষণে পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স দায়িত্ব পালন করবে। জাটকা আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলের জন্য ইতোমধ্যে খাদ্যসহায়তা হিসেবে বরাদ্দকৃত চাল এসেছে। জেলায় ৪০ হাজার ৫ জন জেলের জন্য ৪০ কেজি করে (বিজিএফ) চাল ৪ মাস বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া ঋণদান সংস্থাগুলোকে এই সময়ে কিস্তির টাকা আদায় না করার জন্য বলা হয়েছে।’

নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘জাটকা সংরক্ষণে চাঁদপুরের অভয়াশ্রম এলাকায় নৌপুলিশের প্রতিটি ইউনিট দিন ও রাতে কাজ করবে। কোনও জেলে আইন অমান্য করে জাটকা নিধন করলে আইনের আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে আমরা জেলেদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সতর্ক করে দিয়েছি।’

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন জানান, সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ যেন জাটকা নিধন করতে না পারে সেজন্য তৎপর থাকবে সব স্তরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এর মধ্যে পদ্মা ও মেঘনা নদীর পাড়ে প্রায়  সচেতনতামূলক সভা করেছেন। এতে জেলে এবং মাছ ব্যবসায়ীরা তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জাটকা সংরক্ষণে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবেন তারা।

Link copied!