কুমিল্লার তিতাসে রুবেল মিয়া নামের এক যুবককে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ নিহত রুবেল মিয়ার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে তিতাস থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের গাজিপুর গ্রামের বাস্তুহারা কলোনি থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।নিহত রুবেল মিয়া (২৭) বাস্তুহারা কলোনির বাসিন্দা মৃত মো. আলী মিয়ার ছেলে।
এদিকে রাতেই নিহত রুবেলের বড় ভাই জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে তিতাস থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে৷
এই ঘটনায় একই কলোনির বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীন ও তার ছেলে মোহাম্মদ আলী ওরফে সুন্দর আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপরদিকে রাতে অভিযান চালিয়ে আরো দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ এরা হলেন, গাজীপুর গ্রামের শাহজাহানের ছেলে ইয়াসিন ও একই এলাকার কামাল খাঁনের ছেলে তফাজ্জল৷ এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি কুড়াল ও হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ জানায়, গাজীপুর বাস্তুহারা কলোনির বাসিন্দা থানার ডোম হিসেবে পরিচিত মো. জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোহাম্মদ আলী ওরফে সুন্দর আলী এবং একই এলাকার মৃত মো. আলী মিয়ার ছেলে মো. রুবেল মিয়া একই সাথে চলাফেলা করে। তারা দুইজন মাদকাসক্ত। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক শিশু সুন্দর আলীর ঘরের মধ্যে রক্ত দেখতে পেয়ে আশে পাশের লোকজনকে জানালে লোকজন এসে দেখে রুবেলের নিথর রক্তাক্ত দেহ ঘরের মেঝে পড়ে আছে। পরে মোহাম্মদ আলী ওরফে সুন্দর আলী ও তার বাবা জয়নাল আবেদীনকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ জানান, ঘটনার খরব পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি কুড়াল ও হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়। নিহত রুবেল এর বিরুদ্ধে একটি হত্যা ও ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা রয়েছে৷এই ঘটনায় মো. জয়নাল আবেদীন ও তার ছেলে মোহাম্মদ আলী ওরফে সুন্দর আলীসহ সেদিন রাতেই অভিযান চালিয়ে ইয়াসিন এবং তফাজ্জলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। এঘটনায় নিহত রুবেলের বড় ভাই জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত আসামী দিয়ে তিতাস থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
একুশে সংবাদ/বিএইচ
আপনার মতামত লিখুন :