অস্ট্রেলিয়ায় সময়টা ভালো যাচ্ছে না বিরাট কোহলির। শুরু হয়েছে চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে। আইপিএলে সর্বোচ্চ রানের মালিক হওয়ার পর টি২০ বিশ্বকাপে লাগাতার ব্যর্থ হয়েছিলেন বিরাট কোহলি, কিন্তু ফাইনালে গিয়ে ভালো ইনিংস খেলে দেওয়ায় তাঁকে নিয়ে কোনও কথা ওঠেনি। কিন্তু এরপর শ্রীলঙ্কার মাটিতে গিয়ে ওডিআইতে ব্যর্থ হন বিরাট। এরপর থেকে টানা ফ্লপ কোহলি, মাঝে দুএকটা ম্যাচ বাদ দিলে।
কিউয়ি সিরিজে চূড়ান্ত ব্যর্থ হওয়ার পর পার্থ টেস্টে কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছিলেন টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক। করেছিলেন দ্বিতীয় ইনিংসে শতরান, কিন্তু এরপর থেকে পুরনো রোগে আবারও আক্রান্ত কোহলি। বারবার আফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট ছুঁইয়ে আউট হচ্ছেন। মেলবোর্নেও তিনি একইভাবে আউট হলেন।
এরই মধ্যে মেলবোর্নে চতুর্থ টেস্টে ভারতীয় সমর্থকদের কাছেই কার্যত ভিলেন হয়ে উঠলেন বিরাট কোহলি। এমনিতে তিনি হিরো হলেও যেভাবে যশস্বী জয়সওয়ালের রান আউটের ক্ষেত্রে তিনি জড়ালেন, তা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। অন্তত তাঁর মতো ক্রিকেটারের থেকে। যশস্বী রান নিতে দৌড়াচ্ছেন দেখে বিরাটও এগোলেন, কিন্তু পিছনে ফিল্ডার দেখতে দেখতে আর যশস্বীকে কলই দিলেন না। মাঝখান থেকে শতরানের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েও তাঁকে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হল।
বিরাটের সঙ্গে ভুলবোঝাবুঝিতে রান আউট হলেও, যশস্বীর দোষ হয়ত কমই। কারণ বিরাটও শুরুতে দৌড়েছেন দেখেই তিনি এগিয়ে ছিলেন। বিরাটের অন্তত কল দেওয়া বা হাত দেখানো উচিত ছিল। যশস্বী চুপ করে মাঠ ছাড়লেও তাই অস্ট্রেলিয়ান সমর্থকরা কটুক্ত করতে ছাড়লেন না কোহলিকে। যশস্বীর আউটের পরই স্লোগান উঠল, ‘কোহলি ইজ আ ওয়াঙ্কার’। ওয়াঙ্কার শব্দের অর্থ ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ায় এক ধরণের গালাগাল। অজি সমর্থকরা অবশ্য ভুলে গেলেন, একদিন যখন স্টিভ স্মিথকে সমর্থকরা কটুক্তি করছিল সেদিন এই বিরাটই এসে তাঁদের নিষেধ করেছিলেন।
বিরাট যশস্বীর ১০০ রানের পার্টনারশিপ ভাঙার পরপরই বিরাট আউট হলেন ৩৬ রানে। তিনি সাজঘরে ফেরার পর ফেন্সিংসের সামনে থেকে বু করা হল। তিনি টানেলে ঢুকে গিয়েও ফের ফেরত আসলেন। চোখে মুখে বিরক্তি রাগ, এই রাগ যদি মেলবোর্নে দ্বিতীয় ইনিংস দেখাতে পারেন বিরাট, তাহলে বোঝা যাবে তিনি এখনও পুরনো বিরাটই আছেন। কিন্তু মেলবোর্নের অস্ট্রেলিয়ান সমর্থকদের এই অপমানের পরেও যদি বিরাট নিজের সেরাটা দিয়ে চেনা ঢংয়ে না ফিরতে পারেন, তাহলে এটা মেনে নিতে হবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গেই কালের নিয়মের চেনা বিরাটের সেই ফর্মও অস্তাচলেরই পথে।
একুশে সংবাদ/ এস কে
আপনার মতামত লিখুন :