বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। আজ (শুক্রবার) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে তামিম প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের চমকে দিয়েছিলেন। তবে নাটকীয়ভাবে একদিন পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে তিনি অবসর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ক্রিকেটে ফিরে আসার ঘোষণা দেন।
কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।তামিম নিজের যাত্রার শেষ টানার ঘোষণা দেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তার এই সিদ্ধান্ত সতীর্থদের মধ্যে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তারা তামিমকে শুভকামনা জানিয়েছেন এবং তার অবদানকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
তামিমের সঙ্গে দীর্ঘ ৯ বছর ১০৬টি ম্যাচে একসঙ্গে খেলা সৌম্য সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, নতুন শুরুর জন্য শুভকামনা। অবসর মানে শেষ নয়, এটা সুন্দর এক নতুন অধ্যায়ের শুরুও। সামনের অভিযাত্রা উপভোগের। অবসর শুভ হোক, ভাই। মাঠে আপনাকে মিস করব।
তামিমের আগে জাতীয় দলে আসা মুশফিকুর রহিম তামিমের বিদায়বেলায় নিজের অনুভূতি শেয়ার করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘তামিম, তোমার এই অবসরের সময়ে তোমার অর্জনের জন্য আমি কতটা গর্বিত, সেটি বলছি। দোস্ত, তুমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের অসাধারণ এক দূত এবং বিশ্বমানের ব্যাটার। দুবাইয়ে আমাদের জুটিটি আমি সব সময় মনে রাখব, বিশেষ করে তুমি যখন ভাঙা আঙুল নিয়ে ব্যাট করেছিলে। এতে দেশের প্রতি তোমার নিবেদন ও খেলার প্রতি ভালোবাসাটা বোঝা যায়। অবসর শুভ হোক, দোস্ত। মাঠে তোমাকে মিস করব। তবে ক্রিকেটের মাধ্যমে অসাধারণ এক বন্ধু পাওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
তামিমের অবসরে মাহমুদউল্লাহ লিখেছেন, তামিম, দীর্ঘ এবং দুর্দান্ত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সুন্দর সব অর্জনের জন্য তোমাকে অনেক অভিনন্দন। তোমার অর্জন অনেক এবং বাংলাদেশ দলে অবদানও প্রচুর। আমার মনে হয়, বাংলাদেশ দলের হয়ে এটাই আমাদের শেষবার এক সঙ্গে ব্যাট করার ছবি (পোস্টের ছবি)। তোমার সঙ্গে খেলাটা ছিল আনন্দের এবং মাঠ ও মাঠের বাইরে অনেক স্মৃতি আমাদের। অবসর সুখের হোক এই কামনা করি এবং ভবিষ্যতের জন্যও শুভকামনা রইল। তোমার অবদান সব সময় মনে রাখা হবে।
মোহাম্মদ নাঈম লিখেছেন, আপনার অবসরের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি যুগের অবসান ঘটল। দেশের অন্যতম সেরা ওপেনার হিসেবে নিজের দক্ষতা, নিবেদন ও নেতৃত্বগুণ দিয়ে আপনি এই খেলায় অমোচনীয় ছাপ রেখে গেলেন। বড় সেঞ্চুরি কিংবা চাপের মুখে দারুণ সব পারফরম্যান্সের অবদান আপনাকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সত্যিকারের আইকন বানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) রাতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে তামিম ইকবাল তার বিদায় বার্তায় লেখেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে আছি অনেক দিন ধরেই। সেই দূরত্ব আর ঘুচবে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার অধ্যায় শেষ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে তামিম ৩৯১ ম্যাচ খেলেন (টেস্ট ৭০, ওয়ানডে ২৪৩ ও টি টোয়েন্টি ৭৮)। যথাক্রমে ৫ হাজার ১৩৪, ৮ হাজার ৩৫৭ ও ১ হাজার ৭৫৮ রান করেন। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তার সেঞ্চুরি সংখ্যা ২৫টি। যার মধ্যে টেস্টে ১০, ওয়ানডেতে ১৪ ও টি টোয়েন্টিতে একটি।
একুশে সংবাদ/ এস কে
আপনার মতামত লিখুন :