বিপিএলের চলমান একাদশ আসরে সন্দেহজনক পারফরম্যান্সের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা এনামুল হক বিজয়ের দিকে। সেই গুঞ্জনের মাঝেই এবার তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বেশ কিছু ম্যাচের রেজাল্ট দেখে বিপিএলে স্পট ফিক্সিং নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ইতোমধ্যে তদন্তে নেমেছে বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগ। সন্দেহের তালিকায় আছেন যে কজন ক্রিকেটার, তাদের একজন দুর্বার রাজশাহীর ব্যাটার এনামুল হক বিজয়। যার কারণে তার দেশত্যাগে দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
দেশের জাতীয় দৈনিককে দেওয়া মন্তব্যে বিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘দুর্বার রাজশাহীর অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়ের ব্যাপারে ইমিগ্রেশন বিভাগকে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থা গ্রহণও করা হয়েছে ইতোমধ্যে। তবে এটি সাময়িক, অভিযোগ প্রমাণিত না হলে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।’
ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহের তালিকায় থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজির হিসাবে সর্বোচ্চ ১২ জন ক্রিকেটার খেলছেন দুর্বার রাজশাহী এবং ঢাকা ক্যাপিটালসের জার্সিতে। এর বাইরে সিলেট স্ট্রাইকার্সের ৬ এবং চিটাগাং কিংসের ২ ক্রিকেটারকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সন্দেহজনক পারফরম্যান্সের তালিকায় আছে ৮টি ম্যাচ– ফরচুন বরিশাল-দুর্বার রাজশাহী (৬ জানুয়ারি), রংপুর রাইডার্স-ঢাকা ক্যাপিটালস (৭ জানুয়ারি), ঢাকা-সিলেট স্ট্রাইকার্স (১০ জানুয়ারি), রাজশাহী-ঢাকা (১২ জানুয়ারি), চিটাগাং কিংস-সিলেট (১৩ জানুয়ারি), বরিশাল-খুলনা টাইগার্স (২২ জানুয়ারি) ও চিটাগাং-সিলেট (দুই ম্যাচ)।
বিপিএলের শুরু দিকে রাজশাহীকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এনামুল হক বিজয়। এরপর মাঝ দিকে তাকে অধিনায়ক থেকে সরিয়ে দেয় দলটি। এবার তার উপর স্পট ফিক্সিং নিয়েও উঠেছে অভিযোগ। সন্দেহের তালিকায় থাকা একাধিক ক্রিকেটারের মধ্যে আছেন শুরুর দিকে আছে বিজয়ের নাম।
তাই তাকে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড় শাস্তির মুখোমুখি হবেন তিনি। তার আগে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে এ ক্রিকেটারকে।বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে তাকে যেন দেশ ছাড়তে না দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ‘এনামুল হকের ব্যাপারে ইমিগ্রেশন বিভাগকে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে মতে ব্যবস্থা গ্রহণও করা হয়েছে।’
বিপিএলের চলতি আসরে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বিজয়। ১২ ম্যাচে ৩৯.২০ গড়ে ৩৯২ রান করেছেন তিনি। যেখানে দুই ফিফটির সঙ্গে আছে একটি সেঞ্চুরির ইনিংস।
জানা গেছে, বিজয় ছাড়াও রাজশাহীর একাধিক ক্রিকেটারকে ঘিরে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ আছে। এর বাইরে আরও তিন দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি করছে দুর্নীতি দমন বিভাগ।
একুশে সংবাদ/ এস কে
আপনার মতামত লিখুন :