পাকিস্তানের তিনটি স্টেডিয়ামে হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচ। লাহোর, করাচি ও রাওয়ালপিণ্ডি। যে কোনও আইসিসি প্রতিযোগিতার নিয়ম হল, যে যে মাঠে খেলা হবে, সেখানে অংশগ্রহণকারী সব দেশের পতাকা থাকবে। পাশাপাশি আইসিসির পতাকাও থাকবে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আটটি দেশ খেলে।
সুতরাং, পাকিস্তানের তিনটি মাঠেই আটটি দেশের পতাকা থাকার কথা। ২০২৩ সালে ভারতে যখন এক দিনের বিশ্বকাপ হয়েছিল, তখনও তা দেখা গিয়েছিল। ইডেনসহ ভারতের প্রতিটি মাঠে সব দেশের জাতীয় পতাকা ছিল। সেটাই নিয়ম। ভিডিও যা দেখা যাচ্ছে তা যদি সত্যি হয় তা হলে বলতেই হবে, সেই নিয়ম মানেনি পাকিস্তান।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর দু’দিন আগে লাহোর ও করাচি স্টেডিয়ামের বেশ কিছু ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, দু’টি স্টেডিয়ামে ভারত ছাড়া বাকি সব দেশের পতাকা রয়েছে। ভিডিও গুলি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। ইচ্ছা করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ ভারতীয় সমর্থকদের। পাল্টা পাক সমর্থকদের অভিযোগ, পাকিস্তানের সম্মানহানি করার জন্য ইচ্ছাকৃত ভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
কেন ভারতীয় জাতীয় পতাকা নেই, সেই বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বা আইসিসি কিছু জানায়নি। তবে দু’টি সম্ভাব্য কারণ উঠে আসছে।
এক) পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক দেশ হলেও ভারত তাদের সব ম্যাচ খেলছে দুবাইয়ে। পাকিস্তানে পা রাখবে না তারা। বাকি সাতটি দেশ পাকিস্তানে খেলবে। সেই কারণেই হয়তো ভারত ছাড়া সাতটি দেশের পতাকা লাগানো হয়েছে সেখানকার স্টেডিয়ামে।
দুই) ভারতকে পাকিস্তানে খেলতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে ভারত সে দেশে যেতে চায়নি। তাতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও পাকিস্তানের মুখ পুড়েছে। ভারতীয় বোর্ডের এই পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দিতেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। কারণ যা-ই হোক না কেন, এই ঘটনা যে বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
পাকিস্তানকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়ার পরেই আপত্তি জানিয়েছিল ভারত। পাকিস্তান অনেক চেষ্টা করেও ভারতকে রাজি করাতে পারেনি। ভারত প্রথমে দাবি করে, পাকিস্তান থেকে পুরো প্রতিযোগিতা সরিয়ে দেওয়ার জন্য। সেই দাবি অবশ্য মানা হয়নি। তবে ভারতের চাপে আইসিসি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়ে দেয়, হাইব্রিড মডেল ছাড়া কোনও উপায় নেই। ২০২৩ সালে এই হাইব্রিড মডেলেই হয়েছিল এশিয়া কাপ। পাকিস্তানের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কাতে হয়েছিল খেলা। ভারত তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলেছিল। বাধ্য হয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আইসিসিকে পাল্টা শর্ত দিয়ে জানায়, হাইব্রিড মডেল মেনে নিতে তাদের কোনও সমস্যা নেই। তবে এর পর ভারতে কোনও আইসিসি প্রতিযোগিতা হলে তারাও নিরপেক্ষ দেশে খেলবে। সেই দাবিও মেনে নিয়েছে আইসিসি।
অবশেষে আইসিসির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভারত বা পাকিস্তানে যে যে আইসিসি প্রতিযোগিতা হবে সেখানে এই দুই দেশ নিরপেক্ষ দেশে খেলবে। অর্থাৎ, পাকিস্তানে কোনও প্রতিযোগিতা হলে যেমন ভারত নিরপেক্ষ দেশে খেলবে, তেমনই ভারতে কোনও প্রতিযোগিতা হলে পাকিস্তান খেলবে নিরপেক্ষ দেশে।
আগামী বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হওয়ার কথা। আগামী বছরই ভারতে মহিলাদের এক দিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ রয়েছে। ২০২৬ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হবে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই তিনটি প্রতিযোগিতায় হাইব্রিড মডেলের নিয়ম মানা হবে। আইসিসি আরও জানিয়েছে, ২০২৮ সালে পাকিস্তানে মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে। সেই প্রতিযোগিতাতেও এই নিয়ম মানা হবে।
এর মাঝেই পাকিস্তান ও নিউ জ়িল্যান্ডের মধ্যে খেলা চলাকালীন দেখা যায় এক অন্য দৃশ্য। পাকিস্তানের কিছু সমর্থক পাকিস্তানের পতাকা এবং তেরঙা নিয়ে এসেছিলেন। পাকিস্তানের পতাকাটিও খুব কাঁচা হাতে তৈরি। সেই পাকিস্তানের পতাকা এবং তেরঙার মাঝে একটি সাদা কাপড়ের উপর লেখা ছিল, “পাকিস্তানে এসে খেলো ভারত। পাকিস্তান সুরক্ষিত দেশ। খেলাকে খেলার মতো থাকতে দাও। খেলার মধ্যে রাজনীতি আনার দরকার নেই।”
পাকিস্তানের গ্যালারিতে তেরঙা দেখা গেলেও স্টেডিয়ামে দেখা গেল না ভারতের জাতীয় পতাকা। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। এই ঘটনা সেই ম্যাচের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল।
একুশে সংবাদ/ এস কে
আপনার মতামত লিখুন :