নিরাপত্তাজনীত কারণে দীর্ঘদিন পাকিস্তানের মাটিতে কোনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। শ্রীলঙ্কার টিম বাসে জঙ্গি হামলার স্মৃতি এখনও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে ভেসে উঠে। যদিও সেই সংশয় দূর করে ভারত ছাড়া বাকি বিদেশি দলগুলি আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পাকিস্তানে গিয়েছে, তবে ম্যাচের মাঝে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার রাওয়ালপিন্ডিতে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচের সময় যে ঘটনা ঘটে, তা ক্রিকেটারদের হাড় হিম করার পক্ষে যথেষ্ট। পাকিস্তানের এক ইসলামিক রাজনৈতিক দলের সমর্থককে তাদের নেতার ছবি হাতে নিয়ে মাঠে ঢুকে পড়তে দেখা যায়। শুধু মাঠে ঢোকাই নয়, বরং নিউজিল্যান্ডের তরুণ ক্রিকেটার রাচিন রবীন্দ্রকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরতেও দেখা যায় সেই দর্শককে।
ঘটনার সময় যারপরনাই আতঙ্কে দেখায় মাঠে উপস্থিত নিউজিল্যান্ডের দুই ব্যাটারকে। এই ঘটনায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাক-ফোকর সামনে চলে আসে। স্বাভাবিকভাবেই পিসিবি দায় এড়াতে পারেনি। তারা রাওয়ালপিন্ডির ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
প্রথমত, মাঠে ঢোকা সেই দর্শককে নিরাপত্তারক্ষীরা আটক করে এবং পরে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হয়। পিসিবি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এও জানিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট দর্শককে পাকিস্তানের কোনও ক্রিকেট মাঠেই আর ঢুকতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি এও জানানো হয়েছে যে, পাকিস্তানের যে তিনটি স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচ খেলা হচ্ছে, সেখানে মাঠের চারপাশে আরও বেশি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হবে যাতে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা আর না ঘটে।
মঙ্গলবার পিসিবির তরফে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, ‘রাওয়ালপিন্ডিতে এক দর্শক মাঠে ঢুকে পড়ায় নিরাপত্তা উলঙ্ঘিত হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছে পিসিবি। খেলোয়াড় ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে বরাবর অগ্রাধিকার পায়। দায়িত্বশীল সংস্থা হিসেবে পিসিবি স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছে। পাকিস্তানের সব ম্যাচ কেন্দ্রেই খেলার সময় মাঠে বাড়তি নিরাপত্ত কর্মী মোতায়েন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
পাক বোর্ডের তরফে এও জানানো হয় যে, ‘যে দর্শক মাঠে ঢুকেছিল, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতে পেশ করা হয়। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের সব ম্যাচকেন্দ্রে ঢোকা থেকে আজীবন নির্বাসিত করা হয়েছে সেই দর্শককে। এমন ঘটনা আটকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হচ্ছে।’
একুশে সংবাদ/ এস কে
আপনার মতামত লিখুন :