চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি যত এগোচ্ছে তত পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাওয়ালপিন্ডির পর এ বার লাহোরেও মাঠে ঢুকে পড়লেন এক দর্শক। নিরাপত্তারক্ষীরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে মাঠ থেকে বের করে দিলেও গাফিলতি এড়ানো যাচ্ছে না কোনও ভাবেই। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভারতের না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রতি পদে ঠিক প্রমাণিত হচ্ছে।

বুধবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিতেছে আফগানিস্তান। ম্যাচের পর আফগানিস্তানের ক্রিকেটারেরা উচ্ছ্বাস করার সময় এক যুবক বেড়া টপকে মাঠে ঢুকে আসেন। আফগানিস্তানের ক্রিকেটারদের দিকে ছুটে যান তিনি। এক ক্রিকেটারের গলা জড়িয়ে ধরেন। আর একজনকে ধরতে যাওয়ার সময় তাকে ধরে ফেলেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
প্রশ্ন উঠছে, আফগানিস্তান-ইংল্যান্ড বা নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ ম্যাচেই যদি নিরাপত্তা এ ভাবে বিঘ্নিত হয়, তা হলে ভারত খেলতে গেলে কী হত? বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ঘটনা অনেক বেড়ে যেত। হয়তো বার বার ম্যাচ থামাতে হত। আগের ম্যাচে মাঠে ঢুকে পড়া দর্শককে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। লাহোরের দর্শকের সঙ্গে কী করা হয়েছে তা এখনও জানানো হয়নি।

নিউজিল্যান্ড ইনিংস চলাকালীন যে দর্শক ঢুকে পড়েছিলেন, তিনি কার্যত বিনা বাধায় রাচিনকে জড়িয়ে ধরেন এবং গোটা মাঠে বেশ কিছুটা দৌড়নোর পর তাকে ধরেন নিরাপত্তারক্ষীরা। অন্য দেশের মাঠে এ ধরনের দর্শককে ধরার পর পাঁজাকোলা করে দ্রুত বার করে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সে দিন রাওয়ালপিন্ডির মাঠে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে হাসতে হাসতে ওই দর্শক বেরিয়ে যান। তার হাতে ছিল তেহরিক-ই-লব্বাইকের নেতা সাদ রিজভির ছবি।

মঙ্গলবারই পাক বোর্ড একটি বিবৃতিতে জানিয়েছিল, নিরাপত্তাভঙ্গের এই ঘটনা বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। খেলোয়াড় এবং আধিকারিকদের নিরাপত্তা যে সবার আগে, তা আরও এক বার উল্লেখ করা হয়েছে। জানানো হয়েছিল, স্থানীয় নিরাপত্তা প্রদানকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে কথা বলে আরও বেশি নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হবে ম্যাচের সময়। তারা আরও জানিয়েছিল, ওই দর্শককে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়েছে। তাকে পাকিস্তানের সব ক্রিকেট মাঠে ঢোকা থেকে আজীবনের জন্য নির্বাসিত করা হয়েছে। যদিও নিরাপত্তা যে ঠুনকো তা আরও এক বার প্রমাণিত হয়েছে।
একুশে সংবাদ/ এস কে
আপনার মতামত লিখুন :