আইপিএল ২০২৫-এ দুর্দান্ত শুরু করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। আরসিবি এমন দলগত ভারসাম্য দেখে অবাক হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান এবি ডি`ভিলিয়ার্স। তার মতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দল আগের তুলনায় ‘১০ গুণ ভালো’ হয়েছে। ডি`ভিলিয়ার্স মনে করেন, মৌসুমের শুরুতেই পাওয়া এই অগ্রগামী অবস্থান তাদের জন্য পরবর্তী ম্যাচগুলো সহজ করে দেবে।
শুক্রবার চিপকের মাঠে রজত পতিদারের নেতৃত্বে বেঙ্গালুরু পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংসকে ৫০ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতেছে। ২০০৮ সালের প্রথম আসরের পর এই প্রথমবার চেন্নাইয়ের মাটিতে সিএসকে কে হারাল আরসিবি। এই ম্যাচের পরে বেঙ্গালুরুর এই আইকনিক খেলোয়াড় এবি ডি`ভিলিয়ার্স নিজস্ব পডকাস্ট ডি`ভিলিয়ার্স বলেন, ‘আরসিবির স্কোয়াডের ভারসাম্য আগের মৌসুমগুলোর তুলনায় ১০ গুণ ভালো।’
আইপিএল-এ নিজের কেরিয়ারের প্রায় পুরোটা সময় আরসিবির হয়ে খেলেছেন এবি ডি`ভিলিয়ার্স। তিনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু নিয়ে আরও বলেন, ‘নিলামের সময় আমি বলেছিলাম যে আরসিবির জন্য ভারসাম্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধুমাত্র বোলার, ব্যাটসম্যান বা ফিল্ডারদের ব্যাপার নয়... আইপিএলে সাফল্যের জন্য সঠিক ভারসাম্য এবং বিকল্প থাকা দরকার।
ভারতীয় সুইং বোলার ভুবনেশ্বর কুমারকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে না খেলালেও, সিএসকে ম্যাচে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এবি ডি`ভিলিয়ার্স মনে করেন, বেঙ্গালুরুর স্কোয়াডে বিকল্পের গভীরতাই তাদের এবার শক্তিশালী করে তুলেছে। ২০২১ আইপিএলে শেষবার খেলা ডি`ভিলিয়ার্স বলেন, ‘আরসিবির জন্য এটি দুর্দান্ত শুরু এবং দলটিকে সত্যিই ভালো দেখাচ্ছে। আমরা এখনও ‘এটাই কি সেই বছর?’ এই জায়গায় যাচ্ছি না। তবে আমি বিশ্বাস করি, এটি আরসিবির সেরা শুরু, শুধুমাত্র ফলাফলের দিক থেকে নয়, বরং দলগত কাঠামো ও মাঠে তাদের খেলার স্বাধীনতা দেখেও তা স্পষ্ট।’
চলতি মৌসুমে আরসিবি এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ জিতেছে, এবং দুটিই প্রতিপক্ষের মাঠে কেকেআরকে কলকাতায় ও সিএসকে চেন্নাইয়ে হারিয়েছে। ডি`ভিলিয়ার্স এটিকে অবিশ্বাস্য অর্জন বলে মনে করেন।
এবিডি বলেন, ‘ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কেকেআরকে তাদের মাঠে হারানো, এবং তারপর সিএসকে চেন্নাইয়ে হারানো, যেখানে তাদের রেকর্ড দুর্দান্ত—এটা সত্যিই অসাধারণ! এখান থেকে আরসিবির জন্য পথ অনেক সহজ হয়ে যাবে, কারণ পয়েন্ট তালিকায় এখন তারা শীর্ষে রয়েছে। একমাত্র দল যারা দুটি ম্যাচ জিতেছে এবং দুর্দান্ত নেট রান রেট নিয়ে এগিয়ে আছে।’
ডি`ভিলিয়ার্স আরও বলেন, ‘আরসিবির জন্য সূচি খুব কঠিন ছিল, কিন্তু তারা সেটিকে শক্তিতে পরিণত করেছে। মৌসুমের শুরু কখনও সহজ নয়, তবে তারা একদম নিখুঁতভাবে এগিয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচই অ্যাওয়ে ছিল, এখন তারা হোম ম্যাচ খেলবে। এরপর আবার অ্যাওয়ে, তারপর হোম। এটা খুব অদ্ভুত সূচি, কিন্তু এটি তাদের জন্য সুবিধাজনকও হতে পারে।’
এবি ডি`ভিলিয়ার্স মনে করেন, সফররত দলগুলো যদি জয়ের ছন্দ ধরে রাখতে পারে, তবে তা দলের মধ্যে আরও সংহতি তৈরি করে। এবি ডি`ভিলিয়ার্স বলেন, ‘যখন আপনি জয়ের গতি ধরে রাখেন, তখন দল আরও কাছাকাছি আসে। টানা চারটি হোম ম্যাচ খেললে দলের মধ্যে সেই সংযোগ কিছুটা হারিয়ে যেতে পারে। কিন্তু যখন আপনি সফরে থাকেন, তখন সকলেই একসঙ্গে সময় কাটায়, একই পরিবেশে থাকে, যা দলগত সংহতি বাড়ায়।’
ডি`ভিলিয়ার্স মনে করেন, সিএসকে যদি রজত পতিদারের ক্যাচগুলো না ফেলত, তবে ম্যাচের মোড় অন্যদিকে ঘুরে যেতে পারত। আরসিবি অধিনায়ক ৩২ বলে ৫১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। ডি`ভিলিয়ার্স বলেন, ‘রজত পতিদারের ইনিংস ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৩০-৩২ বলে ৫০-এর বেশি রান। চেন্নাই দলে যদি কয়েকটি ক্যাচ না ফেলত, তবে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত।’
ডি`ভিলিয়ার্স তরুণ অধিনায়ক পতিদারের প্রশংসা করে বলেন, ‘সে খুব শান্ত স্বভাবের, এবং বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। বিরাট কোহলির মতো একজন কিংবদন্তির জায়গায় অধিনায়কত্ব করা সহজ নয়, কিন্তু সে একদম চাপমুক্ত থেকে খেলছে। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করছে, এবং মাঠেও খুব পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’
ডি`ভিলিয়ার্স মনে করেন, সিএসকে ও কেকেআর-এর মতো বড় দলের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচে জয় পাওয়া প্রমাণ করে যে পতিদার খুবই পরিণত অধিনায়ক। পতিদারকে নিয়ে এবি ডি`ভিলিয়ার্স বলেন, ‘তার শান্ত স্বভাব, দৃঢ়তা ও স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে এমন সাফল্য এনে দিচ্ছে। বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার সময় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু মিস ফিল্ডিং বা খারাপ শট যাতে তাকে প্রভাবিত না করে, সেটাই তার বড় শক্তি।’
একুশে সংবাদ/ এস কে
আপনার মতামত লিখুন :